শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পূর্ব পাশের সার্ভিস লেন থেকে সাহেদা আক্তার (২৩) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। লাশের ঘাড়, বুক ও কোমড়ে ৫ রাউন্ড গুলির চিহ্ন রয়েছে। জানা গেছে, শনিবার ভোরে রাস্তায় রক্তাক্ত লাশটি পরে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। লাল রংয়ের ওভারকোট ও কালো রংয়ের টাইটস পরিহিত অজ্ঞাত নারীর পরিচয় সনাক্তে পুলিশ কাজ শুরু করে। বিকাল ৫টার দিকে সনাক্ত হয় ওই নারীর নাম সাহেদা। সে ময়মনসিংহ কোতয়ালী থানার বেগুনবাড়ি ববিয়ান এলাকার মৃত মোতালেব মিয়ার কন্যা। বেশ কয়েক বছর ধরে সে তার মা জরিনা বেগমের সাথে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় বসবাস করতো। খবর পেয়ে মা জরিনা বেগম ও ছোট ভাই জসিম শ্রীনগর থানায় এসে সাহেদার লাশ সনাক্ত করে। সাহেদার মা জরিনা বেগম জানান তিনি ওয়ারী এলাকায় বিভিন্ন বাসায় কাজ করেন। সাহেদাও তার সাথে এই এলাকায় থাকেন। ৮ বছর আগে সাহেদার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের কিছুদিন পরই তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। সাহেদা ওয়ারী এলাকায় একটি বাসায় বাচ্চা দেখাশুনার কাজ করতো। মাঝে মাঝে রাতের বেলায় সাহেদা ওই বাসায় গিয়ে থাকতো। সে শুক্রবার রাত সোয়া ১১ টার দিকে ওই বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায়। শনিবার দুপুরের পর পুলিশ তাদেরকে জানায় সাহেদা শ্রীনগর থানায় রয়েছে। কিন্তু মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে এটা তিনি ভাবতে পারছেন না। সাহেদা কোন বাসায় কাজ করতো তার ঠিকানা জরিনা বেগম বলতে পারেন না।জরিনা বেগম আরো জানান, ওয়ারী এলাকার তৌহিদ নামে এক যুবকের সাথে সাহেদার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তৌহিদের পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নিচ্ছিল না। এর আগেও তৌহিদ তার মেয়েকে নিয়ে চাঁদপুর ঘুরতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনা হয়। এর পরও তৌহিদ মাঝে মধ্যেই সাহেদাকে ডেকে নিতো। শুক্রবার রাতে তৌহিদ তার মেয়েকে ডেকে নিয়েছে কিনা তা তিনি বলতে পারেন না। জরিনা বেগম আরো বলেন, তৌহিদ এলাকায় গাঁজা ব্যবসার সাথে জড়িত। তৌহিদের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে বিক্রমপুরে। কিন্তু কোন এলাকায় তা তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেন না। সাহেদার ভাই জসিম (২০) জানান, তারা প্রায় ১০ বছর ধরে ঢাকায় থাকেন। গত প্রায় এক মাস আগে ওয়ারীতে বাসা নেন। এর আগে বনগ্রাম লেনে থাকতেন। তার বোন সাহেদাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো কেন তা তিনি মিলাতে পারছেন না।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ফিরোজ কবির বলেন, সাহেদা কোন বাসায় কাজ করতো ওর পরিবার তা বলতে পারছে না। পুলিশ রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।
মোঃ ফারুক খান
শ্রীনগর,মুন্সিগঞ্জ
৩০/১১/২৪
৩০/১১/২৪
