রাজধানীর শাহবাগসহ তিন এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শাহবাগ, মৎস্য ভবন ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আগের দিন সোমবার যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। ওই দিন দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের (ডিএমআরসি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। রাজধানীর ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় লোকজনও। রোববার পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালান মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা। এই কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ভুল চিকিৎসার কারণে হয়েছে, এমন অভিযোগের জেরে ওই হামলা চালানো হয়েছিল।
এ ঘটনার পর দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। ব্রিফিংয়ে দেশে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বড় ধরনের পরিকল্পনা না থাকলে এক দিনে (সোমবার) এতগুলো ঘটনা কাকতালীয় না। সরকার মনে করছে, এখানে নানা পক্ষের পরিকল্পনা আছে। সরকার সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করুক, এটা হয়তো অনেকেই চাইছে না। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে।
এতে বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করে সরকার। গত দুই দিনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিশৃঙ্খলা–ভাঙচুরের যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা বড় ধরনের পরিকল্পনার অংশ বলেই ভাবছে সরকার। হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার। এ ধরনের কার্যক্রম সহ্য করা হবে না।
