রাবিতে ক্যাবের আলোচনা সভা: ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরে ক্যাব প্রস্তাবিত নীতি বাস্তবায়নের দাবি

ছবি জাতীয় বাংলাদেশ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক খাত নয়, বরং জনগণের মৌলিক সেবা খাত হিসেবে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় পুনর্বহাল করতে হবে। ক্যাব প্রস্তাবিত বাংলাদেশ জ্বালানি রূপান্তর নীতি-২০২৪ বাস্তবায়ন হলে জ্বালানি খাত ভোক্তাবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পথে এগোবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সুবিচার প্রতিষ্ঠা, ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ এবং পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাবির ডিনস কমপ্লেক্সের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় এমন দাবি তুলেছেন বক্তারা।

সভার আয়োজন করে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “জ্বালানি খাত কেবল অবকাঠামো নির্ভর খাত নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এ খাতে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে উন্নয়নও দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই হবে না।

মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম. শামসুল আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সরবরাহে লুন্ঠনমূলক ব্যয়, অযৌক্তিক মুনাফা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাবে ভুগছে। ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি-২০২৪ এই সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান দিতে পারে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার এবং লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. পারভেজ আজহারুল ইসলাম। তাঁরা জ্বালানি খাতে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্যাব যুব সংসদ রাজশাহীর সভাপতি জুলফিকার আলী। সঞ্চালনায় ছিলেন রাবির শিক্ষার্থী এম.আর.বি তাহসিন।

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিফা তাজনুর উপস্থাপন করেন “জ্বালানি সরবরাহে লুন্ঠনমূলক ব্যয় ও মুনাফা”। একই বিভাগের শিক্ষার্থী অরিত্র রোদ্দুর ধর আলোচনা করেন “জ্বালানি নিরাপত্তা সংরক্ষণে বিনিয়োগ ও মূল্যহার” বিষয়ে। মেহবুবা আফরোজ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন “জ্বালানি খাত উন্নয়নে সুবিচার সংকট” শীর্ষকে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এম.আর.বি তাহসিন বলেন, “জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।” আমান উল্লাহ উপস্থাপন করেন “ভোক্তার অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণে বিইআরসি আইন”। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফি সিরাজি অন্তর বক্তব্য দেন “জ্বালানি অধিকার সংরক্ষণে ক্যাব প্রস্তাবিত নীতি” বিষয়ে। রুয়েটের শিক্ষার্থী আরেফিন আহমেদ আজমি উপস্থাপন করেন “লুন্ঠন প্রতিরোধে ক্যাব প্রণীত ১৩ দফা দাবি”।

সভায় জানানো হয়, ক্যাব চলতি বছরের শেষার্ধে আয়োজন করবে “ইয়ুথ পার্লামেন্ট অন জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন”-এর সংসদীয় অধিবেশন। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন। এর উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তরুণ সমাজের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি রূপান্তর এখন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। কিন্তু এ প্রক্রিয়া যদি কেবল বাণিজ্যিক স্বার্থে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে জনগণের অধিকার ও স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ভোক্তাবান্ধব, স্বচ্ছ ও সুবিচারভিত্তিক নীতি বাস্তবায়ন ছাড়া টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, “ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি-২০২৪ সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী একটি পদক্ষেপ। এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিত করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তারা।

 

0Shares