রাজশাহী, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: রাজশাহীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্য ঘোষিত মহানগরী ও জেলা কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১২টায় রাজশাহী কলেজের মূল ফটক থেকে শুরু হয়ে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধনে সমবেত হন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্ররা।
তাদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে আন্দোলনের প্রকৃত নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে বহিরাগত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। আন্দোলনের সৃজনশীল নেতৃত্বের অবমূল্যায়ন এবং স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
**জুলাই অভ্যুত্থান এবং আন্দোলন:**
শিক্ষার্থীরা জানান, জুলাই মাসে রাজশাহীতে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, রাজশাহী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন তারা। এই আন্দোলনকালে রাজশাহীর দুই কৃতিসন্তান, আলী রায়হান ও সাকিব আঞ্জুম, প্রাণ হারান।
**নতুন কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ:**
নতুন কমিটিতে বহিরাগত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং সরকার-সমর্থিত দল ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পদায়নের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে, জাসদের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া, কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে একজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি স্থান পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা আন্দোলনের আদর্শের সঙ্গে বিরোধী বলে শিক্ষার্থীরা মন্তব্য করেছেন।
**বিক্ষোভ এবং ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম:**
বিক্ষোভ শেষে মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আরিফ সোহেল, আব্দুল হান্নান মাসুদ, হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা ঘোষণা করেছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই কমিটি বাতিল না হলে তারা আরো বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন।
শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, রাজশাহীতে মাহিন সরকার এবং সালাউদ্দিন আম্মারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
