রাজশাহীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা ও মহানগর কমিটি বাতিলের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম এবং দুই সমন্বয়ক অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ছবি জাতীয় বাংলাদেশ সারাদেশ

রাজশাহীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা ও মহানগর কমিটিতে ‘প্রকৃত ত্যাগী’দের স্থান না দেওয়ায় কমিটি বাতিলের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজশাহীর ছাত্রসমাজ। একইসাথে, এই পকেট কমিটির জন্য কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাহিন সরকার ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। লিখিত বক্তব্যে জুবায়ের রশিদ বলেন, “জুলাই বিপ্লবে সারাদেশের মতো রাজশাহীর ছাত্রজনতাও বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে। তবে দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত নায়কদের বাদ দিয়ে পাঁচ আগস্টের পর সুবিধাভোগী কিছু অনুপ্রবেশকারীর মাধ্যমে প্রহসনের পকেট কমিটি গঠন করেছে।”

গত ৩০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী জেলা এবং মহানগর কমিটি ঘোষণা করে। তবে এই কমিটিতে প্রকৃত আন্দোলনের সাহসী, বিপ্লবী এবং নির্ভরযোগ্য নেতৃত্বকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কমিটিতে আন্দোলনবিরোধী, বহিরাগত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে, যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাজারে চাঁদাবাজি, ক্ষমতার দখল এবং সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত।

অভিযোগ রয়েছে, ফাতিন মাহাদী ও মাহিন সরকার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই কমিটি গঠন করেছেন। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই কমিটির নেতৃত্বে এমন অনেককে রাখা হয়েছে যারা সরাসরি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এমনকি আওয়ামী লীগের শরিক দল জাসদের ছাত্র সংগঠনের মূল নেতৃত্বও এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।

রাজশাহী মহানগরের আন্দোলনে সেসময় যারা রাজশাহীর বাইরে ছিল, আন্দোলনে সম্পৃক্তই ছিল না, তাদেরকেও কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রকৃত লড়াকু যোদ্ধাদের নাম সেখানে অনুপস্থিত। এছাড়াও, একজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামিকে এই কমিটির শীর্ষ পদে রাখা হয়েছে, যা এই কমিটির প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেয়।

জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজশাহীর ছাত্রসমাজ এই অবৈধ পকেট কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি বাতিল করার জন্য কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ এবং হাসনাত আব্দুল্লাহর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তারা রাজশাহীর সর্বস্তরের ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে এই পকেট কমিটিকে সম্পূর্ণভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এবং একইসাথে রাজশাহীর মাটিতে মাহিন সরকারকেও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

জুবায়ের রশিদ আরও বলেন, “এই আন্দোলন হাজারো শহীদের আত্মদানের ফসল, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার প্ল্যাটফর্ম নয়। রাজশাহীর ছাত্রজনতা জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় যে কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত।”

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *